মার্কশিটের বদলে এবার রিপোর্ট কার্ডে আসেসমেন্ট? মোদির ঘোষণায় ২০২২ থেকেই নয়া শিক্ষানীতি
নিউজ ডেস্ক- ২০২২ সালে ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষপূর্তি। সেই বছরই একবিংশ শতকের ভারত পাবে নতুন শিক্ষানীতি।’ শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রক আয়োজিত জাতীয় শিক্ষানীতি সংক্রান্ত অনুষ্ঠান ‘একবিংশ শতকের স্কুলশিক্ষা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই প্রক্রিয়া বদলের ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সরকারের লক্ষ্য, ‘২০২২ সালেই ভারতে শুরু হবে নতুন শিক্ষানীতি।’ শুধু যে সিলেবাস আমূল পাল্টে যাবে তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন, বদলে যাবে মার্কশিট প্রথাও। মানসিক চাপে শিক্ষার্থীরা সহজভাবে শিক্ষাগ্রহণ থেকে পিছিয়ে পড়ছে। এই মার্কশিট প্রথার কারণেই বহু গুণসম্পন্ন ছাত্রছাত্রী পিছিয়ে পড়ে জীবন ও জীবিকার পথে। এই ব্যবস্থার পরিবর্তন দরকার। মোদি বলেছেন, ‘প্রেশার কমাতে হবে। সেই চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে মার্কশিটের ভয়ই না থাকে।
কোনও একটি পরীক্ষায় সবথেকে ভালো কিংবা খারাপ ফল করলেও তা যাতে প্রকাশ না পায়, সেটাই কেন্দ্রের লক্ষ্য। গড়ে তোলা হচ্ছে নতুন একটি যাচাই প্রক্রিয়া, যেখানে মার্কশিটের গুরুত্ব থাকবে না। মোদি বলেছেন, ‘চালু হবে একটি সামগ্রিক রিপোর্ট কার্ড। সেই রিপোর্ট কার্ড তৈরি হবে সিলেবাসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, প্রতিভা, নিষ্ঠা, মৌলিক যোগ্যতার নিরিখে।’
বিগত ৩০ বছরে শিক্ষা ব্যবস্থায় রাজ্যেগুলিতে মাতৃভাষায় শিক্ষা, প্রবেশিকা পরীক্ষার নিয়ম, প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি বৃত্তিমূলক শিক্ষা, গ্রেডিং ব্যবস্থা ইত্যাদি নানাবিধ পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু সরাসরি মার্কশিট ব্যবস্থা কখনওই তুলে দেওয়া হয়নি। মোদির বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, কেন্দ্র সম্পূর্ণ নতুন একটি শিক্ষা-যাচাই পদ্ধতি নিয়ে আসতে চলেছে। এতে কোনও পড়ুয়ার গুণমানের প্রমাণ একটিমাত্র পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হবে না। প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি নতুন সিলেবাসে আনা হচ্ছে কোডিং, জয়েন্ট ইন্টারনেট, ক্লাউড কম্পিউটিং, ডেটা সায়েন্স এবং রোবটিক্সের মতো বিষয়। প্রধানমন্ত্রী আজ সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ যে কথাটি বলেছেন তা হল, ভারতের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন জাতীয় শিক্ষা নীতি অনুযায়ীই শিক্ষালাভ করে। সেই অনুযায়ীই সম্প্রতি নয়া শিক্ষানীতি তৈরি করেছে কেন্দ্র। সেই প্রস্তাব নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজ্যে।