করনা আবহে উচ্চতায় ছোট হচ্ছে বিশ্বকর্মা থেকে দুর্গা প্রতিমা, হতদ্য়ম মৄৎশিল্পীরা

করনা আবহে উচ্চতায় ছোট হচ্ছে বিশ্বকর্মা থেকে দুর্গা প্রতিমা, হতদ্য়ম মৄৎশিল্পীরা

নিউজ ডেস্ক:- দুর্গাপুজোর বাকি আর মাত্র দেড় মাস। পুজো আসন্ন হলেও অর্থ সঙ্কটের জেরে এবার উচ্চতায় খাটো হচ্ছেন বিশ্বকর্মা থেকে মা দুর্গা। গতবার যাঁরা ১৪ ফুটের বরাত দিয়েছিলেন, তাঁদের দুর্গা এবার পাঁচ ফুটের। সাত ফুটের বিশ্বকর্মা এবার নেমে এসেছে মাত্র সাড়ে তিন ফুটে! দেবতাদের উচ্চতা কমে যাওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে শিল্পীদের। দিনরাত একই পরিশ্রম করলেও এবার লোকসানের মুখে পড়েছেন ‘দেবতা তৈরির কারিগর’রা।
প্রতিবছর পুজোর দু’মাস আগে থেকেই চরম ব্যস্ততা শুরু হয় কুমোরটুলিতে। দুর্গা প্রতিমা তৈরির সঙ্গে বিশ্বকর্মার বরাত। শিল্পীরা নাওয়া-খাওয়ার সময় পান না। খড়, মাটি, রং নিয়েই দিন কাটে তাঁদের। কিন্তু, এবার করোনায় সেই ব্যস্ততার ছবিও উধাও। বরাত মিললেও সংখ্যায় অনেক কম। বর্ধমান শহর সহ পূর্ব বর্ধমানের বহু জায়গায় প্রতিমা তৈরি হয়। বেশিরভাগ জায়গাতেই এবার শিল্পীদের মুখেও হাসি নেই। শিল্পীদের কথায়, দেবতার উচ্চতা ছোট হওয়ায় কাজ বিশেষ কমেনি। কিন্তু, রোজগার কমেছে বহুগুণ। কাঠের উপর খড় বাঁধা, মাটি চাপানো, রং করা, দেবতার পোশাক পরানো, তাঁদের সাজ ও অলঙ্কার পরানো সহ অনেক কাজ থাকে। তার উপর শেষে দেবতাদের অস্ত্র দিতে হয়। প্রতিমার আকার ছোট হলেও সব কাজই করতে হচ্ছে, যেখানে পরিশ্রম কিছু কমেনি।
            অন্যান বছর রাজ্যের বিভিন্ন পুজো উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে প্রতিমা গড়ার সিংহভাগ বায়না পেতেন কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পীরা। এখানকার মৃৎশিল্পের ভুবন ভোলানো খ্যাতির কারণে নামী থেকে সাধারণ শিল্পীরা এই সময় ব্যস্ত হয়ে পরেন প্রতিমা গড়তে। কেউ আবার পুজোর আগে দুর্গা প্রতিমা তৈরি করতে চলে যান কলকাতা, দিল্লি-সহ ভিন রাজ্যে।এ বার করোনার কারণে বাইরের পুজো উদ্যোক্তাদের বায়না এসেছে নামমাত্র। ভিন রাজ্যেও যেতে পারেননি কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পীরা। এখন তাই তাঁদের ভরসা কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী। সেকারণে দুর্গা প্রতিমা ছেড়ে রোজগারের আশায় আড়াই মাস আগেই জগদ্ধাত্রী প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু করে দিয়েছেন অনেক শিল্পী। স্থানীয় আনন্দময়ীতলা, তাঁতিপাড়া, উকিলপাড়া-সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় সিংহবাহিনী তৈরির কাজ অনেকটাই এগিয়েছে।রথতলার জনৈক মৃৎশিল্পীর কথায়, 'প্রতিবার ৩০ থেকে ৩৫টি দুর্গা প্রতিমা গড়ার বায়না পাই। পঞ্চাশ হাজার থেকে শুরু করে দেড়-দু'লাখ টাকা পর্যন্ত দাম পেতাম। এবার সাকুল্যে পাঁচটি প্রতিমার বায়না জুটেছে। হয়তো আরও দু'একটা জুটতে পারে। কিন্তু যেগুলোর বায়না পেয়েছি তা একচালির সাবেকি ঢঙের প্রতিমা।