১৫ হাজার টাকার ঊর্ধ্বসীমায় ছাড়, এবার পেনশনে নতুন মোড়
নিউজ ডেস্ক:- এবার কোনও নির্দিষ্ট সীমায় বাঁধা থাকবে না পেনশন। বেতন বৃদ্ধির সাথে বাড়বে অবসর পূব ও পরবর্তী পাওনার অঙ্ক। নতুন পিএফ গ্রাহকদের জন্য এমনই উদ্যোগ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। যে কর্মীর বেতন যত বেশি, তিনি তত বেশি পেনশন পাওয়ার সুবিধা ভোগ করবেন। এমনই একটি প্রস্তাব গৃহীত হতে চলেছে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশনের (ইপিএফও) অছি পরিষদের বৈঠকে। তা কার্যকর হলে নানাভাবে উপকৃত হবেন পিএফের আওতায় থাকা কর্মীরা।
বর্তমানে পিএফ গ্রাহকরা ‘এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম ১৯৯৫’-এর অন্তর্ভুক্ত। নিয়ম অনুযায়ী কর্মী যে বেতন পান, তার মূল বেতন (বেসিক) এবং মহার্ঘ ভাতার (ডিএ) ১২ শতাংশ কেটে জমা করা হয় পিএফ অ্যাকাউন্টে। একইসঙ্গে সম পরিমাণ টাকা দেয় নিয়োগকর্তাও। নিয়োগকারী সংস্থা জমা করা অর্থের ৮.৩৩ শতাংশ যায় পেনশন স্কিমে। কর্মচারীর মাইনে যাই-ই হোক না কেন, সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা মূল বেতন পর্যন্ত পেনশনের হিসেব করা হয়। অর্থাৎ, মূল বেতন তার বেশি হলেও পেনশন খাতে ১৫ হাজারের ৮.৩৩ শতাংশ বা ১,২৫০ টাকাই জমা হবে। দেশের সব কর্মচারীর তরফে পেনশন স্কিমে যে টাকা আসে, তা জমা হয় শুধুমাত্র একটি তহবিলে। কর্মীর ৫৮ বছর বয়স থেকে এই অবসরকালীন ভাতা চালু হয়ে যায়। তাঁর শেষ পাঁচ বছরের চাকরিতে যে টাকা পেনশন স্কিমে জমা হয়েছে, তার ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট ফর্মুলায় ভাতা দেওয়া হয়। যাঁরা ন্যূনতম ১০ বছর পিএফের আওতায় থাকেন, তাঁরা এই সুবিধা পেয়ে থাকেন, অন্নথায়, নিয়োগকারী সংস্থা পেনশন স্কিমে টাকা জমা করলেও তিনি ওই পেনশন পাননা।
নতুন নিয়মে দপ্তরের কর্তারা বলছেন, মূলত তিনটি বিষয়ে পরিবর্তন করা হচ্ছে। প্রথমত, ১৫ হাজার টাকা মূল বেতনের যে ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া আছে, উঠে যাবে, অর্থাৎ নয়া ব্যবস্থায় কর্মচারী যত টাকা বেতন পাবেন, তার বেসিক এবং ডিএ’র ৮.৩৩ শতাংশ জমা হবে ইপিএফও’র পেনশন স্কিমে। দ্বিতীয়ত, এখন সবার পেনশন স্কিমের টাকা একটি মাত্র তহবিলে জমা হয়। পরিবর্তিত ক্ষেত্রে প্রত্যেক কর্মীর নিজস্ব পেনশন ফান্ডে যত টাকা জমা হবে, তার উপর নির্ভর করবে তাঁর অবসরকালীন ভাতা। ফলে যাঁরা বেশি বেতন পাবেন, তাঁদের পেনশনও বেশি হবে। তৃতীয়ত, যেহেতু প্রত্যেক কর্মীর আলাদা পেনশন ফান্ড থাকছে, তাই চাইলেই সেই টাকা তুলে নিতে পারেন, এমন সুপারিশও প্রস্তাব আকারে রাখা হয়েছে ইপিএফও’র অছি পরিষদে, শর্ত সাপেক্ষ্যে। সুপারিশে বলা হয়েছে, যদি কোনও ব্যক্তির দু’বছর চাকরি না থাকে, তাহলে তিনি চাইলে নগদে ফান্ড থেকে টাকা তুলে নিতে পারবেন। অন্য কাজ নিয়ে পাকাপাকিভাবে বিদেশে চলে গেলেও গ্রাহক যাতে তাঁর টাকা তুলতে পারেন, এমন প্রস্তাবও রয়েছে বলে দপ্তর সূত্রে খবর।
বর্তমানে যাঁরা পিএফের সুবিধা পান, তাঁদের ন্যূনতম পেনশন এক হাজার টাকা। যা বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রের উপর চাপ রয়েছে। অছি পরিষদ মান্যতা দিলে নতুন পিএফ গ্রাহকের পেনশন বাড়তে পারে।