প্রয়াত তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ জেলার কান্ডারী মান্নান হোসেন
নিউজ ব্যুরো;কলকাতা, ১৪ নভেম্বর : আজ বিকেলে তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ জেলার কান্ডারী মান্নান হোসেন কলকাতার একটি বেসরকারী নার্সিং হোমে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন । দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। তিনমাস আগে তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল।গত ২ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি কলকাতার ওই বেসরকারী নার্সিং হোমেই ভর্তি ছিলেন। ফের অসুস্থ হয়ে পড়ায় আবার তাঁকে কলকাতার ওই বেসরকারী নার্সিং হোমেই ভর্তি করা হয় । শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায় তাঁকে রাখা হয়েছিল ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে । এরপর আজ বিকেল সাড়ে চারটেয় তাঁর মৃত্যু হয়।মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।
দু বছর ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন মান্নান হোসেন। দুটো কিডনিই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় মাস তিনেক আগে। এরপর ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছিলেন।ফের অসুস্থ হয়ে পড়ায় আবার তাঁকে ভর্তি করা হয় কলকাতার ওই বেসরকারী নার্সিং হোমে।গতকাল থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। চিকিৎসার জন্য তৈরী করা হয় মেডিক্যাল বোর্ড। রাখা হয় CCU-তে।কিম্তু , আজ সকাল থেকে তাঁর অবস্থার অবনতি হয়। এরপর বিকেলে মৃত্যু হয় তাঁর। কংগ্রেসের হাত ধরেই রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন মান্নান হোসেন।কংগ্রেসের হয়ে নির্বাচন লড়ে তিনবার সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। যুব কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতিও ছিলেন তিনি। তবে,২০১৪ সালে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি।তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
একসময় মুর্শিদাবাদ জেলার পরিচিতি ছিল কংগ্রেস তথা অধীর চৌধুরীর দুর্গ হিসেবে।অথচ, এখন সেই জেলায় তৃণমূলের জয়জয়াকার।আর, এটা সম্ভব করেছিলেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি সদ্য প্রয়াত মান্নান হোসেন।শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি ছুটে বেড়াতে না পারলেও দৃঢ় মানসিকতা ও সাংগঠনিক দৃঢ়তাকে কাজে লাগিয়ে দলকে নতুন মাত্রা দিয়েছিলেন।বর্তমানে, জেলায় তৃণমূলের সংগঠন মজবুত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে ।এর মূল কারিগর ছিলেন জেলা সভাপতি মান্নান হোসেন । মান্নান হোসেনের নেতৃত্বে ও কর্মকুশলতায় তৃণমূল কংগ্রেস একের পর এক পঞ্চায়েতের দখল নেয়৷ জেলার সব কটি পুরসভা এমনকি জেলা পরিষদও এখন তৃণমূলের দখলে৷