রহস্যময় মাগদালেন দ্বীপপুঞ্জের বর্তমান জনসংখ্যা ১২৮০০

রহস্যময় মাগদালেন দ্বীপপুঞ্জের বর্তমান জনসংখ্যা ১২৮০০

নিউজ ডেস্ক : মানুষের কৌতূহলের কোনো শেষ নেই কানাডার পূর্ব উপকূলে অবস্থিত মাগদালেন দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে । কুইবেকের নিউ ফাউন্ডল্যান্ড এবং প্রিন্স এডওয়ার্ড দ্বীপের মাঝামাঝি আধ কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে মাগদালান । অনেকে একে লেস ইলেস-ডে-লা-মাডালেইন নামেও ডাকে।সপ্তদশ শতক থেকে অষ্টাদশ শতকের মধ্যে অন্তত ৫০০ থেকে এক হাজার জাহাজ ডুবির ঘটনা ঘটেছে এই দ্বীপপুঞ্জে । মাত্র আধ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে এত বেশি জাহাজ ডুবির ঘটনা অনেকের কাছেই এক বিস্ময়কর রূপকথার মতো। কি কারণে সেখানে এত বেশি জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে তা নিয়ে এখনো গবেষণা করে চলেছেন বিজ্ঞানীরা।

কারো কারো মতে, এই সব দুর্ঘটনা অশুভ কোনো শক্তির প্রভাবেই ঘটে থাকতে পারে। আবার অনেকের ধারণা, সাগরের তলদেশে চোরাবালি, গোপন চর, বালুর বাঁধ কিংবা পাথরের কারণেই  দুর্ঘটনা।অবশ্য , ঐ সময় নাবিকদের লাইট হাউজ কিংবা নৌ-বিদ্যার মতো  কোনো জ্ঞান ছিল না । পরবর্তীতে ধীরে ধীরে সাগর পথে নানা বিপদ-আপদ সংক্রান্ত কৌশলগুলো যুক্ত হয়েছে নৌ চলাচল ব্যবস্থায়।

 অনিয়মিত ও শক্তিশালী স্রোত এখানকার প্রধান বৈশিষ্ট্য। এজন্য এখানে নৌ চলাচল খুবই বিপজ্জনক। পুরো এলাকায় কোনো লাইট হাউস নেই। এই দ্বীপপুঞ্জের উপকূলে এত বেশি সংখ্যক জাহাজ ডুবির ঘটনা ঘটেছে যে সেগুলোকে খুঁজে বের করাটা শুধু কঠিনই নয় অসাধ্যও বটে। এখানে কি পরিমাণ মানুষের সলিল সমাধি হয়েছে সে হিসাব পাওয়াও অসম্ভব।

তীব্র স্রোতের পাশাপাশি বাতাসের তীব্র গতি, সমুদ্রের ভারী জল, তীব্র শীত এবং বরফ নানা কারণে এই উপকূল নাবিকদের জন্য হয়ে উঠত মৃত্যু উপকূল। কুয়াশার কারণে গতিপথ ঠিক রাখতে পারতেননা নাবিকরা। মজার বিষয় হলো, এক জনগোষ্ঠী গড়ে উঠেছে ভয়াবহ এই উপকূলকে ঘিরে।জাহাজ ডুবির পরে সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া মানুষরা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেন।ধীরে ধীরে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া মানুষদের থেকে বর্তমানে দ্বীপটির  জনসংখ্যা ১২ হাজার ৮০০ জন।